এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো স্থিতিশীল রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক পর্যাপ্ত সরবরাহ ও নিম্নমুখী চাহিদা জ্বালানি পণ্যটির দাম স্থিতিশীল থাকার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স ও বেয়ার্ড মেরিটাইম।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ১০ সেন্ট। এ সময় জানুয়ারিতে সরবরাহের চুক্তিতে পণ্যটি প্রতি এমএমবিটিইউ ১১ ডলার ৫ সেন্টে বেচাকেনা হয়।
ব্রেইনচাইল্ড কমোডিটি ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক ক্লাস ডোজম্যান বলেন, ‘এশিয়ার স্বল্পস্থায়ী ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে স্পট মার্কেটে চাহিদা কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিকভাবে বাজারের চিত্র পরিবর্তন হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও উন্নত হয়নি। এ কারণে এলএনজির দাম স্থিতিশীল।’
তিনি জানান, এলএনজির বর্তমান দাম বেশির ভাগ মূল্যসংবেদনশীল ক্রেতাদের জন্য এখনো বেশি। তবে ইন্দোনেশিয়া ও মিসরে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়তে পারে। এতে এ দুই দেশ থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাইস্টাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মাসানোরি ওদাকা জানান, শীত মৌসুমে চীনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও বর্তমান স্পট মূল্য এবং চুক্তিভিত্তিক পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে নতুন করে কেনার আগ্রহ কম।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস জানিয়েছে, নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য গত বৃহস্পতিবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ৯ ডলার ৮৫ সেন্ট। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তি মূল্যের তুলনায় ৫৩ সেন্ট কম।
আর্গাস এ দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ৯ ডলার ৮৯ সেন্ট। স্পার্ক কমোডিটিজ তা নির্ধারণ করেছে এমএমবিটিইউয়ে ৯ ডলার ৮৭ সেন্ট।
আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘এশিয়ার এলএনজির দামের প্রিমিয়াম ইউরোপের তুলনায় বেশি। তবে তা এশিয়ায় চাহিদা বাড়ার কারণে নয়, বরং আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় দাম একটু বেশি রাখতে হয়েছে।’
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাশিম আফগান বলেন, ‘বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এশিয়াগামী রুট কিছুটা খোলা থাকলেও এখন আবার তা বন্ধ হয়ে ইউরোপমুখী হয়েছে। তবে পানামা রুট দিয়ে এশিয়ায় রফতানির সুযোগ এখনো খোলা রয়েছে।’
তিনি জানান, গত সপ্তাহে আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় বেড়ে দৈনিক ৮২ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে পরিবহন ব্যয় ছিল দৈনিক ৬২ হাজার ডলার, যা ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।